কলাবাগানে ধর্ষণ ও হত্যা মামলাদিহানের সঙ্গে দারোয়ানের বর্ণনার অনেকটাই মিল পাচ্ছে পুলিশ

প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত
কলাবাগানে ধর্ষণ ও হত্যা মামলাদিহানের সঙ্গে দারোয়ানের বর্ণনার অনেকটাই মিল পাচ্ছে পুলিশ প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ, ১২ জানুয়ারি, ২০২১

রাজধানীর কলাবাগানের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ওই বাসার দারোয়ান দুলাল হোসেনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে কলাবাগানের ডলফিন রোড থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ডিএমপির নিউমার্কেট জোনের এসি আবুল হাসান জানান, ঘটনার পর থেকেই নজরদারিতে ছিলেন ওই বাসার দারোয়ান দুলাল। ঘটনার যথার্থতা যাচাইয়ে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে দিহানের দেওয়া বর্ণনা মিলিয়ে দেখা হবে। যেহেতু দারোয়ান এজহারভুক্ত আসামি নয় সেহেতু তাকে আটক রাখা হবে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের পুরো এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি। পাশাপাশি দিহানের ওই ৩ বন্ধুর মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিলো সেই লোকেশন বের করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে তাদের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় আমরা ছেড়ে দিয়েছি। তবে, তারা নজরদারির বাইরে নয়। প্রয়োজনে তাদের আবার হেফাজতে নেওয়া হবে।

জিজ্ঞাসাবাদে দুলাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা অথবা সাড়ে ১১টার দিকে একজন মেয়ে আসে পান্থনিবাস-২ অ্যাপার্টমেন্টে। দিহান দোতালার ডি-২ ফ্লাট থেকে নিজেই নেমে এসে ওই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় যান। তবে ওই মেয়ে প্রবেশের বিষয়ে তিনি রেজিস্টার বইয়ে কোনো তথ্য লিখেননি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দুপুর ১টা অথবা সোয়া ১টার দিকে দিহান ওই মেয়েটিকে পাঁজাকোলা করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিং স্থানে গাড়ির পিছনের সিটে তোলেন। এরপর দিহান নিজেই গাড়ি চালিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে যান। এরপর ওই মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ভয় পেয়ে যান। এ কারণে তিনি ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পালিয়ে যান।

ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মো.সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমরা প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে দারোয়ানকে হেফাজতে নিয়েছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরে জানানো হবে। এছাড়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই একদিনের মধ্যে দিহানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে বন্ধু দিহানের মোবাইল কল পেয়ে বাসা থেকে বের হন রাজধানীর ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিন। এরপর কিশোরীকে কলাবাগানের ডলফিন গলির নিজের বাসায় নিয়ে যান দিহান। ফাঁকা বাসায় তাকে ধর্ষণ করা হয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে দিহানসহ চার বন্ধু তাকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় আনুশকার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনার মামলায় দিহান গ্রেফতার রয়েছেন। তিনি ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।