কলারোয়া বৃহত্তম বাওড়ে চাষাবাদে স্বস্তিতে গরীব কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক কলারোয়া :
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের বৃহত্তম বাওড়ের মধ্যে দলুইপুর বাওড় উল্লেখযোগ্য। সেই উল্লেখযোগ্য দলুইপুর – খোরদো – পাকুড়িয়া – দেয়াড়ার একাংশ ও মিরডাঙ্গা মধ্যবর্তী বৃহত্তম বাওড়ে চাষাবাদের সুযোগে স্বস্তি ফিরতে শুরু হয়েছে গরীব কৃষকদের ।

যে বাওড় দীর্ঘদিন ধরে পানিতে প্লাবিত ছিল। ছিল মানুষের পুকুর, কৃষিযোগ্য ফসলী জমি। স্থানীয়রা জানান, ২০০০ সাল বা তার আগে থেকেই ঐ বাওড়ের পার্শ্ববর্তী মানুষের মৎস্য ঘের, পুকুরসহ ফসল করার উপযুক্ত যায়গা-জমি পানির নিচে দীর্ঘদিন ধরে ডুবে থাকে।

আনুমানিক ২০-২২বছরের ব্যবধানে উচ্চবিত্ত্য, মধ্যবিত্ত্ ও নিম্নবিত্তদের জীবন যাপন ঐ বাওড় থেকে চাষাবাদ না করতে পেরে বেশ কষ্টে কাটে। বিশেষ করে সল্প জমির মালিকদের অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়েছে এমনটিই জানান স্থানীয়রা। বিনাশ্রম ও বিনা খরচে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ হারিয়ে ফেলেছে ওখানকার গরীব মানুষেরা।

সম্প্রতি সময়ে সেই সমস্ত স্থান থেকে পানি শুকিয়ে বা কপোতাক্ষ নদীতে ঐ বাওড়ের পানি অপসারণের মাধ্যমে ফসল ও মৎস্য চাষ করার জন্য তৈরী হচ্ছে গরীব মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্ত  সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের। যদিও এখন সম্পুর্ন তৈরি হয়ে উঠেনি। তবে আংশিক কিছু বাওড়ের পার্শ্ববর্তী এলাকা ধান বা অন্যান্য ফসল ফলানো সম্ভব দেখা দিয়েছে। যদি দলুইপুর বাওড় কোন কারন বসত্ পুনরায় প্লাবিত না হয় তাহলে ফিরে পাবে পুরানো দিনের স্বচ্ছলতার অবস্থা বলে মনে করছেন বাওড়ের পার্শ্ববর্তী শহশ্রাধীক মানুষ।

তারই সুযোগ ধরেছেন প্রথমেই উপজেলা দলুইপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির আলী গাজী ও মোঃ তফিকুল ইসলাম। জৈনেক মুক্তিযোদ্ধা আমির আলীকে দেখা যায় ঐ বৃহত্তম বাওড়ের চর এলাকায় তার অল্প কিছু জমি জেগে উঠায় ধান চাষ করতে। পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেকেই চাষাবাদের উৎসাহ নিয়ে তারাও কিছু চাষ শুরু করেছেন।

জৈনেক আমির আলী বলেন, ওই বৃহত্তম বাওড়ের চতুর্দিকে মালিকানা জমি কয়েক হাজার বিঘা। বাওড়ের মধ্য দিয়ে সরকারী জমি সে তুলনায় অনেক কম। আমার অল্প কয়েক শতাংশ জমি ডুবে আছে দীর্ঘদিন ধরে ঐ বাওড়ের পানিতে। যার কারণে চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। পৈতৃক সম্পত্তি অনুযায়ী ছোট থেকেই বিভিন্ন রকম চাষাবাদ করে সংসার চালিয়েছি। ধান, পাট, গম, ভুট্টা, পিয়াজ, রসুন, শাক-সবজীসহ অন্যান্য ফসল , এমনকি পুকুরে মাছ চাষ করে অনেক সুখে শান্তিতে বসবাস করতেন বলে জানান তিনি। শুধু সে নয় পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজারো গরীবসহ সকল শ্রেণীর মানুষের উপকার হয়েছে বলেও তিনি জানান। কিন্তূ দীর্ঘদিন ধরে পানিতে প্লাবিত থাকায় মেঠো জমিতে কামলা ও অন্যান্যরা ফসল আবাদ করেছেন। এখনও করছেন অনেকেই । ওই বাওড়ের ফসলী জমিতে ফসল করতে তেমন কোন খরচ হয়না বলেও তিনি ব্যক্ত করেন।

বর্তমান সরকার কপোতাক্ষ নদ খনন করার পর ঐ বৃহত্তম বাওড়ের পানি অপসারণ হচ্ছে এবং এভাবেই যদি বাওড় কতৃপক্ষ পানি অপসারণ করে কপোতাক্ষে দিয়ে দেয় তাহলে সকলেই পুরোনো দিনের ন্যায় ফসল ও মাছ চাষ করে সস্তি ফিরে পাবে। কিন্তূ পুনরায় যদি ঐ বাওড়ে পানি ঢুকে পড়ে কপোতাক্ষ বা বর্ষায় তাহলে আবারও কষ্ট ভোগ করবে সল্প জমির মালিক গরিব মানুষেরা।

তবে বর্ষার পানিতে তেমন ক্ষতি হবে না যদি কপোতাক্ষ নদীর পানি ঐ বাওড়ে স্লুইজ গেট দিয়ে না ঢুকতে পারে বলে মনে করছেন আমির আলীসহ এলাকার বাসিন্দারা।এদিকে জৈনেক তফিকুল ইসলাম করছেন শাক-সবজীর চাষ। তিনিও বেশ স্বস্তিতে আছেন চাষাবাদের সুযোগে আলাপচারিতায় লক্ষনীয়।

তাছাড়া দীর্ঘ বছর ধরে ঐ বাওড়ে পড়ে থাকা সম্পত্তি থেকে কোন লাভবান হতে পারেননি বলে জানান তিনি।তবে হাজারো মানুষের উপকার হবে যদি পুনরায় বাওড় পানিতে প্লাবিত না হয় বলে জানান চতুর্পাশে বসবাসরত গরিবসহ সকল শ্রেণীর মানুষ ও জমির মালিক পক্ষরা। তাছাড়া দলুইপুর বৃহত্তম বাওড়ের উপরে বিলিন হওয়া প্রাচীন জনপদটি সংস্কারেরও দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

কালাম সর্দার

কলারোয়া (সাতক্ষিরা ) প্রতিনিধি, দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই তাঁর লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি অনেক সচেতন।