কোটি টাকার প্রতারণার ফাঁদ, টার্গেট বিজয়ের মাস!

স্টাফ রিপোর্টার :
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। একাত্তরের এই মাসেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিলো। বাঙলার ঘরে ঘরে স্বাধীন স্বমহিমায় উড়তে শুরু করছিল লাল-সবুজ পতাকা। বাঙালি রচনা করেছিলো নতুন এক ইতিহাস। বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছিল নতুন দেশ বাংলাদেশ। দীর্ঘ নয়মাস ব্যাপী ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছিলাম স্বাধীন দেশ। অসংখ্য মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে কিনেছিলাম স্বাধীন মানচিত্র। এই ডিসেম্বর মাসেই বাঙালিরা হাজার বছর ধরে লালন করা স্বাধীনতার স্বপ্ন ছুঁয়ে দিয়েছিল।
বিজয়ের মাসকে টার্গেট করেই এবার মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে ‘কোটি টাকার প্রতারণার ফাঁদ‘ করে মাঠে নেমেছে প্রতারক সিন্ডিকেট। ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা নামের সংগঠনের সরকারিভাবে বৈধতা নেই। এই অবৈধ সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আতিকুর রহমান আতিক নামের এক ঘটক। রাজধানীর মিরপুর ও খুলনা থেকে করা হচ্ছে এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ। মিরপুরে হোটেল প্রিন্সে এঁদের গোপন বৈঠক চলে। হোটেলের একজন কর্তাও রয়েছেন এই সিন্ডিকেটে। বাড়ি নং ৩৯, (৫ম তলা), ব্লক খ, রোড নং ২, সেকশন ৬, সেনপাড়া পর্বতা, মিরপুর ঢাকার ঠিকানাকে হেড অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জানুয়ারি মাসের প্রথম তারিখে ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষকী পালন ও বিজয় দিবস পালনের নামে ‘একলাখ‘ সদস্য সংগ্রহ করতে মহানগর, জেলা, উপজেলা, স্কুল ও কলেজে প্রতারক সিন্ডিকেট সক্রিয় হবার চেষ্টা করছে। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে পাঁচশত টাকা থেকে একহাজার টাকা।
প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ছোট শিবের চর গ্রামের গ্রাম পুলিশ হাবিবুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান আতিক। নিজ এলাকা থেকে বিতারিত হবার পর ‘ঘটক‘ হিসেবেই ঢাকার মিরপুরে অবস্থান নেয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতে হঠাতই ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন সংস্থা নামে একটি সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করে ফেসবুকে। এতে সক্রিয় নেতৃত্বে প্রতারক চক্রের প্রধান আতিকুর রহমান ও খুলনার শাহিনুর আক্তার নেতৃত্ব দেয়।
অসহায় মানুষকে সাহায্যের নামে দেশ এবং বিদেশ থেকে অনুদান নেয়া, ফেসবুকে সদস্য সংগ্রহ সহ মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আইডি কার্ড বিক্রির ব্যবসা সক্রিয় হয়ে ওঠে। চট্রগ্রামে ওই প্রতারক চক্রের কাছে প্রতারিতরা ২০১৭ সালের জুলাই মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ, র‌্যাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অভিযোগ করে। এর ভিত্তিতে চট্রগ্রামের স্থানীয় গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। ঘটক আতিকুর রহমান নিজ গ্রামে থাকেনা, স্থায়ী কোনো ঠিকানা না থাকায় ঘুরপাক খায় প্রশাসন। আত্মগোপনে থাকে আতিকুর।
এরপর ২০১৮ সালে ফাউন্ডেশন নাম পাল্টিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন সংস্থা নামে জয়েন্ট স্টকে নামের অনুমোদনের আবেদন করে প্রতারক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক আতিকুর রহমান। ওই বছর সেপ্টেম্বর মাসেই আবেদনটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
সম্প্রতি পুলিশের এক সাবেক ডিআইজিকে উপদেষ্টা প্রচার করে নিজেকে হেভিওয়েট পরিচয় দিয়ে প্রতারনায় মেতে ওঠে আতিকুর রহমান। এই প্রতারকের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়ার ভয় দেখানো, থানায় একাধিক জিডি সহ ফেসবুকে মানহানি করা শুরু করে। নিজেদের সাধু পরিচয় দিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে প্রতারক সিন্ডিকেট। এনিয়ে চলতি ২০১৮ সালে প্রতারক আতিকুরের অপকর্মের ফোন রেকর্ড ভাইরাল হয়। নানা অপকর্মের সুত্র ধরে গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হবার পর থেকেই ফের আত্মগোপন করে আতিকুর। যেসকল সংবাদকর্মীরা নিউজ করেছিল, তাঁদের সম্মানহানি করে ফেসবুকে অপপ্রচার থেকে শুরু করে ফেসবুক লাইভে সাংবাদিকের অকথ্যভাষায় গালাগালি করে। এঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা তুরাগ থানায় জিডি নং- ২২৬, তারিখ ০৫/০৭/২০১৯ ইং করেন একজন সাংবাদিক।
চলতি বছরের নভেম্বর মাস থেকে নতুন প্রতারণার ফাঁদ নিয়ে মাঠে নেমেছে আতিকুর ও শাহিনুরের নেতৃত্বে সেই প্রতারক সিন্ডিকেট। আতিক পরিচয়ধারি চেয়ারম্যান, অন্যজন মহাসচিব। এবার টার্গেট বিজয়ের মাস। প্রবাসীদের কাছ থেকে আর্থিক ফায়দা নেয়ার জন্য এই চক্রে যুক্ত হয়েছেন রতন মিয়া নামের এক সৌদি প্রবাসী। চলতি ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে ‘কোটি টাকার প্রতারণার ফাঁদ‘ নিয়ে মাঠে কাজ করছে প্রতারক চক্রের একটি টিম। ফেসবুক লাইভে এবং স্ট্যাটাসে বিজয়ের মাসে একলাখ সদস্য সংগ্রহের তথ্য আতিকুর রহমান নিজেই তুলে ধরেছে। নিজেকে ক্রাইম পেট্রোলের নিবাহী সম্পাদক, একটি টিভি চ্যানেলের মালিক ও তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে অপকর্ম করে চলেছে আতিকুর রহমান। কখনো মানবাধিকার চেয়ারম্যান, কখনো সাংবাদিক সংগঠনের চেয়ারম্যান পরিচয়ে প্রতারক সিন্ডিকেট গড়ে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বিজয়ের মাসে একলাখ সদস্য সংগ্রহ এবং প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে পাঁচশত টাকা থেকে একহাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে এবং অবৈধ সংগঠনের অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।
এবিষয়ে মন্তব্য নিতে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, বাংলাদেশের বড়বড় মিডিয়া আমাকে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলেছে। প্রথম আলো থেকেও আমাকে সাপোর্ট দিচ্ছে। তোদের সংবাদপত্র সব ভুয়া, নিউজ করে দেখ, তোদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হবে।

ডেস্ক নিউজ

নেট থেকে সংগৃহিত ও অনুবাদকৃত সংবাদ সমূহ অফিসে সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদ গুলো ডেস্ক নিউজ হিসেবে প্রকাশিত হয়।