দেশের বিভিন্ন স্থানে “উৎসাহ পরিবার” এর কম্বল বিতরণ

ইউনুছ শিকদারঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় উৎসাহ সমাজসেবা ও রক্তদান সংগঠনের উদ্যোগে তৃতীয় বারের মতো শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাক বাংলো প্রাঙ্গণে “প্রজেক্ট শীত নিবারণ” শিরোনামে তেঁতুলিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি,ড্রাগস ফ্রী বাংলাদেশ,মহানন্দা ব্লাড সোসাইটি,তেঁতুলিয়া শুভ সংঘ এবং উৎস- স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের সার্বিক সহায়তায় উৎসাহ এ আয়োজন সম্পন্ন করে।

আর্তমানবতার পাশে দাঁড়ানোর ব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় উৎসাহ। এ লক্ষ্যে তারা নিয়মিতভাবে রক্তদাতা সংগ্রহ,শীতবস্ত্র প্রদান,ঈদবস্ত্র প্রদান,শিক্ষা সরঞ্জাম প্রদান,জরুরী ত্রাণকার্য পরিচালনার মতো মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।

তেমনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক প্রয়াস ছিলো ‘প্রজেক্ট শীত নিবারণ’। এই প্রজেক্টের আওতায় শীতবস্ত্র পেয়েছেন সীমান্তশহর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রান্তিক জনগণ। উল্লেখ্য এ অঞ্চলে সারাদেশের মধ্যে প্রতিবছর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় এবং শীতের প্রকোপে মানুষ মারা যাবার মতো ঘটনাও ঘটে থাকে। শীতে চরম মানবেতর জীবনযাপন করেন তেঁতুলিয়ার কৃষিভিত্তিক দরিদ্র জনগণ।

উক্ত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলার মাননীয় চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহীন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন “পত্র-পত্রিকা এবং অন্যান্য গনমাধ্যমে তেঁতুলিয়ার মানুষের দুর্দশার কথা জেনে সেই সুদূর চট্টগ্রাম থেকে সাহায্য নিয়ে এসেছেন উৎসাহ পরিবারের সদস্যরা। এজন্য উৎসাহ পরিবারের কাছে তেঁতুলিয়াবাসী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। ভবিষ্যতে উৎসাহ এ ধরণের মহৎ কাজের ধারা অব্যহত রাখবে,এটিই আমার বিশ্বাস।”

বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে তেঁতুলিয়া উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু বলেন “উৎসাহ পরিবারের এমন মহান উদ্যোগে তেঁতুলিয়াবাসীকে পাশে রাখায় তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। তারা চেষ্টা করেছে সবচেয়ে অভাবীদের হাতে শীতবস্ত্র পৌঁছাতে,যেটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়। আমি তাদের ভবিষ্যতের জন্য সার্বিক কল্যাণ কামনা করি।”

অতিথিবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া থানা’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে উৎসাহের এই শীতবস্ত্র ইভেন্টের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তরুণদেরকে উৎসাহের কাজ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।

উৎসাহ সমাজসেবা ও রক্তদান সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি কমিটির চেয়ারম্যান রায়হান আহমেদ রাহুল বলেন “উৎসাহের এই উদ্যোগকে সফল করতে সকল স্বেচ্ছাসেবক আন্তরিকভাবে সহায়তা করেছেন। তাছাড়া দাতাবৃন্দের সাহায্য ব্যতিত আমরা এতো বড় আয়োজন সফল করতে পারতাম না। আমি তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং আশা করছি সামনে আরও বড় উদ্যোগ নেয়ার সময়েও তাঁরা এভাবেই আমাদের সাথে থাকবেন এবং উৎসাহ যোগাবেন।”

এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী নিয়ে উৎসাহের ইভেন্ট চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন রাহিন স্বাগত বক্তব্যে বলেন “বিরূপ প্রাকৃতিক অবস্থার শিকার দেশবাসীর পাশে দাঁড়ানোর আমাদের মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিবারের ন্যায় এবারও অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের ঊদ্যোগ নিয়েছি আমরা। সব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব না হলেও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি সবচেয়ে বেশী অসহায় লোকদের মাঝে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিতে।”

উৎসাহের ‘প্রজেক্ট শীত নিবারণ’ এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হায়সম আফতাব ইভান বলেন- “আমরা উৎসাহের সদস্যরা সবাই খুব আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করি নিজেদের সর্বোচ্চ দেয়ার। চেষ্টা বেশী থাকে যেন আমরা আমাদের সম্মানিত দাতাবৃন্দের আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিতে পারি। এরপরেও মানবিক সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভুলত্রুটি থেকেই যায়। আমরা সামনে থেকে চেষ্টা করবো যেন আরও বিশাল পরিসরে এবং নিখুঁতভাবে আমাদের এই প্রজেক্টের ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিতে পারি।”

প্রজেক্ট শীত নিবারণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উৎসাহ এর প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন,অর্থ সম্পাদক সাখাওয়াত আহমেদ,নির্বাহী সদস্য সাজ্জাদ সাহেদ,নির্বাহী সদস্য নূপুর সুলতানা,নির্বাহী সদস্য তারেক রহমান। এছাড়াও তেঁতুলিয়ার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আতিকুজ্জামান শাকিল,এস কে দোয়েল,এমএ হান্নান,আলমগীর হোসাইন,রবিউল ইসলাম রতন,আশরাফুল প্রমূখ।

উক্ত কর্মসূচীর পরে খয়খাট পাড়া নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার এতিম শিশুদের মাঝেও শীতবস্ত্র বিতরণ করে উৎসাহ পরিবার।

উল্লেখ্য উৎসাহ সমাজসেবা ও রক্তদান সংগঠন ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,যারা নিয়মিত দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবিক ও সামাজিক স্বেচ্ছাশ্রমমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

ইউনুছ শিকদার

সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি, দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই তাঁর লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি অনেক সচেতন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।