নোয়াখালীতে ভূয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আটক, ৬ মাসের কারাদন্ড

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী পৌরসভার হাউজিং এ্যাষ্টেট এলাকা থেকে মো. আবুল কাশেম নামে এক ভূয়া ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

রোববার রাতে ওই পৌরসভার হাউজিং এ্যাষ্টেট এলাকার মাতৃছায়া হাসপাতাল (প্রা:) থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ভ্রাম্যমান আদালত ৬ মাসের সাজা প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত আবুল কাশেম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানার চরজাঙ্গালিয়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের ছেলে।
ভ্রাম্যমান আদালত সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন যাবত ভুয়া ডাক্তার আবুল কাশেম নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে নিজেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করে আসছিল। সে নিজেকে এমবিবিএস, এসএসএমসি, পিজিটি (মেডিসিন), এমডি-চর্ম যৌন,এলার্জি, ডিএমইড (আল্টাসনোগ্রাফী), বিএমডিসি, রেজি-৪৮৬১৯, মিটফোর্ড হাসাপাতাল এসব পদবি ব্যবহার করে প্যাড ব্যবহার করিয়া নিয়মিত রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে আসছে।

রোববার রাতে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নোয়াখালী জেলা শাখা সভাপতি ডা: ফজলে এলাহী খাঁন এই ভুঁয়া চিকিৎসকের খবর পেয়ে একদল চিকিৎসক নিয়ে রোগী সেজে ওই ভূয়া ডাক্তারের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নেন। ৫০০ টাকা ভিজিট নেওয়া পর ফজলে এলাহী খাঁন ওই ডাক্তারকে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তিনি অসংলগ্ন কথা বলে। কোন মেডিকেল থেকে পাশ করেছে তাও বলতে পারে নি। এক পর্যায়ে সুধারম মডেল থানায় খবর দেওয়া হলে থানার এসআই সুধন চন্দ্র দাস পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শহরের মাতৃছায়া হাসপাতাল (প্রা:) থেকে ভুয়া ডাক্তার আবুল কাশেমকে আটক করে। পরে তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান সর্দারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরিফুল ইসলাম সর্দার ৬ মাসের সাজা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুধারাম থানার এসআই সুধন চন্দ্র দাস ভুয়া ডাক্তার আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্বাচিপ নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি ডা: ফজলে এলাহী খাঁন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আবুল কাশেম মাতৃছায়া হাসপাতাল সহ বিভিন্ন স্থানে নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে চিকিৎসাপত্র প্রদান ও রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ভুয়া চিকিৎসক রয়েছে। তাদেরকে শনাক্ত ও আটক করতে স্বাচিপের টিম কাজ শুরু করেছে।