সবজি চাষে ঘুরে দাঁড়ালেন হালিমা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও জৈব উপায়ে সবজি চাষ করে ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামের নারী সবজি চাষি হালিমা বেগম। আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমে তিনি এখন সফল সবজি চাষি। মানুষের সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাঠেঘাটে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এ নারী।

জানা গেছে, গত জুন মাসে পূর্ব কলকিহারা গ্রামে আড়াই বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেন হালিমা বেগম। এর মধ্যে জুলাইয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়। ১৮ দিন বন্যার পানি অবস্থান করায় নষ্ট হয়ে যায় হালিমার সবজিক্ষেত। কিন্তু দমে যাননি অদম্য এ নারী।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের সবজি চাষ করেন হালিমা। তিনি দেড় বিঘা জমিতে শসা, ১৬ শতক জমিতে করলা ও ১৩ শতক জমিতে ঢ়্যাঁড়স চাষ করেছেন। সবজি চাষে তার ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে তার সবজিক্ষেতে শসা, করলা ও ঢ়্যাঁড়স বিক্রি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তার উৎপাদিত সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন শসা তুলে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে তার খেত থেকে ৬ থেকে ৮ মণ শসা উঠানো হয়। প্রতি মণ শসা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশ অনুকূল থাকলে শসা চাষ করে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে। শসা ও অন্যান্য সবজি চাষে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হালিমার খেতের সবজির চাহিদা অন্যান্য কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ তিনি সবসময় জৈব উপায়ে ও কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই সবজি চাষ করে থাকেন। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবহার করেন। তিনি নিজেই এসব জৈবসার উৎপাদন করেন। তার কাজে সহায়তা করেন তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন।

হালিমার সংসার চলত অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। স্বামী তোফাজ্জল হোসেন অন্যের কাজ করে যা রোজগার করতেন, তা দিয়ে কোনো মতে দিন পার হতো তাদের। ২০১০ সালে দাতা সংস্থা অক্সফ্যামের সহযোগিতায় রি-কল প্রকল্প কাজ শুরু করে পূর্ব কলকিহারা গ্রামে। উপায়ন্তর না দেখে পূর্ব কলকিহারা সূর্য উদয় উন্নয়ন সংঘ নামে গ্রামভিত্তিক সংগঠনে (সিবিও) উৎপাদক দলের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। রি-কল প্রকল্পের কর্মকর্তা ও ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটরদের পরামর্শ ও তাদের আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে থাকেন হালিমা।
২০১৮ সালে দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম বকশীগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে কাজ শুরু করলে ভাগ্য খুলে যায় হালিমার। উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্পের মাধ্যমে হালিমাকে বিভিন্ন সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে অন্যের জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন নিজ উদ্যোমে। উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে পরিবেশবান্ধব সবজি চাষের জন্য কৃষি প্রদর্শনী প্লট, কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও সেক্স ফেরোমেন ফাঁদের জন্য ১৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এতে করে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেন হালিমা।
গত জুলাইয়ের বন্যায় তার সবজিক্ষেত পানিতে বিনষ্ট হলে বন্যার পর ফের শসা ও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেন। এরই মধ্যে তার উৎপাদিত সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন শসা তুলে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে তার খেত থেকে ৬ থেকে ৮ মণ শসা উঠানো হয়। প্রতি মণ শসা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশ অনুকূল থাকলে শসা চাষ করে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে। শসা ও অন্যান্য সবজি চাষে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নারী সবজি চাষি হালিমা জানান, সবজি চাষ করেই তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। তার দেখাদেখি অন্য নারীরাও সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারাও এখন সবজি চাষ করছেন। বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর আজাদ জানান, উপজেলা কৃষি দপ্তর হালিমাকে ফসল উৎপাদনে সবসময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।