ওসিসহ ৬ এসআইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

ওসি ও ৬ দারগার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

আইন-আদালত

কুমিল্লা: জেলার তিতাস থানার এস. আই সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মোবাইলে ফোনে ডেকে নিয়ে মনির হোসেন মোল্লা (৩৫) নামের এক যুবককে মিথ্যে অস্ত্র মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওসিসহ ৬জন এস.আইয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরে মহা-পুলিশ পরিদর্শক (মনিটরিংসেল) ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে এসআই সিদ্দিকের মুঠোফোনের রেকর্ডসহ একটি ছবি জমা দেয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই (বুধবার) বিকেলে ০১৮৪৫৪৯৯১২২ নম্বর থেকে একটি কল তিতাস থানার এস. আই সিদ্দিকের পরিচয়ে ফোন দিয়ে ভুক্তভোগী মনির হোসেন মোল্লাকে জরুরীভাবে থানায় যেতে বলা হয়। পরে মনির থানায় গেলে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

এ সময় তিনি প্রতিবাদ করলে কোনো উত্তর না দিয়ে বরং সিদ্দিকের সাথে থানার এস. আই কামাল, এস.আই বারী, এস.আই কমল মালাকার ও এস. আই নাছেরসহ আরও কয়েকজন পুলিশসদস্য মিলে বেদম মারপিট করে, সেই সঙ্গে বেশি কথা বললে গুলি করারও হুমকি দেয়।

এছাড়া মারপিঠ শেষে হাতকড়া পরিয়ে মনিরকে ওসির কক্ষে নিয়ে যায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। পরে ওসির নির্দেশে অসহায় মনিরের পকেটে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র রেখে তাকে মিথ্যে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী মামলার আসামী হিসেবে থানায় আটকে রাখে। পাশাপাশি ও নিজের মুঠোফোন দিয়ে ছবি তুলে রাখেন।

এছাড়াও মনিরের পরিবার আটকের খবর পেয়ে থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ ৫ লাখ টাকা দাবি করে। তা না হলে তাকে আরও বেশ কয়েকটি মামলায় মিথ্যে আসামী সাজিয়ে চালান করে দেয়ারও ভয় দেখায় তারা।

অন্যদিকে পুলিশের দাবিকৃত অর্থ দিতে মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে অপারগতা প্রকাশ করলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা দণ্ডবিধি ধারা ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় দুটি মিথ্যে মামলার আসামী সাজিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। মনিরের বিরুদ্ধে আনা কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করেই আদালতে হাজির করে। পরে আদালতের নিকট জামিন আবেদন করলে জামিন মঞ্জুর করেন।

এ অবস্থায় এসআই সিদ্দিকসহ অন্যান্যদের দুর্নীতি ও অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সুপার ও পুলিশ মহা পরিদর্শক(মনিটরিংসেল) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মনির।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই সিদ্দিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকতাদেরও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply