almamun

মানসিক বোঝার অন্তরকথন

মানুষের জন্য

ব্যক্তিজীবন কিংবা সমাজজীবন সব সময় সহজ-সরল হয় কি? ভালোবাসা, মানবতা, বিবেকের বোঝা থেকে ইচ্ছা থাকলেই মুক্ত হওয়া যায়? এর নানান ব্যাখ্যা থাকতে পারে, তবে নিজের ও সমাজের সঙ্গে মানুষের দ্বন্দ্ব-উত্তরণের যুদ্ধ তো চলতেই থাকে। এই চলা আনন্দের, আবার ব্যর্থতার বেদনাও আছে। এই বেদনা ব্যক্তির মান, অভিমান, ভালোবাসা, হিংসা ইত্যাদি অনুভূতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আবার সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় অসংগতির চাপও মানুষকে মানসিক যন্ত্রণা দেয়। অন্তরে ঘটে রক্তক্ষরণ। মনস্তাত্ত্বিক এসব বিষয়ের ভাবানুবাদ নিয়ে কলাকেন্দ্রে চলছে ‘বারডেন’ বা ‘বোঝা’ শিরোনামের প্রদর্শনী।

জীবনে চলার পথে নানা প্রতিকূল পথ পাড়ি দিতে হয়। এই সংগ্রামে যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়, তার চরম পরিণতি বহন করে জীবন। অনেক সময় আত্মহননের ইচ্ছা জাগে। সমসাময়িক জীবনভাবনার এই বিষয়টি উঠে এসেছে শিল্পী এ রহমানের এই প্রদর্শনীতে। প্রদর্শনীটি ৮ জুলাই শুরু হয়েছে। শেষ হবে ২৭ জুলাই।

প্রথাগত ছাপচিত্রের বাইরে এসে শিল্পী মডেলের শারীরিক ভাষার আলোকচিত্র নিজের মতো করে গ্রহণ-বর্জন করেছেন। এর ওপর করেছেন প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রয়িং, কোলাজ ও রঙের ব্যবহার। কিউরেটর ওয়াকিলুর রহমান শিল্পীর শিল্পগুলোকে প্রথাগত ফ্রেমবন্দী না করে গ্যালারির দেয়ালে সেঁটে দিয়েছেন। এটি শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে একটি সহজ যোগাযোগ এনে দিয়েছে।

শিল্পীর ব্যবহৃত উপাদানে নগরজীবনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। মডেলের শরীরের গতি ভূমির দিকে ধাবিত। অনাকাঙ্ক্ষিত বোঝার ভারে শরীর ন্যুব্জ। নিয়মকানুনের বেড়াজাল যেন শরীরকে মায়াজালের মতো জাপটে ধরেছে। সৃষ্টি করেছে বন্দিদশার রূপকল্প।

দর্শক প্রদর্শনীটিতে শিল্পীর দীর্ঘদিনের শিল্পযাত্রার কাজগুলোকে সহজে তিনটি পর্বে ভাগ করে নিতে পারবেন। প্রথম পর্বের কাজে আলোকচিত্রের ওপর ছোট ছোট ফ্রেমে কোথাও একটু রঙের ছোঁয়া। দ্বিতীয় পর্বের কাজে আলোকচিত্রের ওপর রং, রেখা ও তুলির আঁচড় নতুন ভাব ও ব্যঞ্জনা তৈরি করে। তৃতীয় পর্বের কাজে আলোকচিত্র ব্যবহারে মডেলের শরীরের বিভিন্ন বর্ণিকাভঙ্গম।

ইউরোপের চিত্রকলায় নিরীক্ষাধর্মী এমন কাজ দেখা গেছে আরও আগেই। এ রহমানের কাজে ও চিন্তায় ব্যতিক্রম শুধু নতুন আঙ্গিকের উপস্থাপনা। যেকোনো শিল্পী সব সময় উপযোগী চিন্তা ও চেতনার বাতাবরণে সহজ ও সরলভাবে আধুনিকতার দিকে ছোটেন, যা প্রশংসা বা নিন্দা দুটিই নিয়ে আসতে পারে। এ রহমানের উপস্থাপনা, কাজের বিষয়বস্তু ও উপাদানের ব্যবহার প্রমাণ করে যে জীবনের এই ভার যুগ যুগ ধরে মানুষ বহন করে আসছে। এ যেন মানব সভ্যতারই চিরাচরিত রূপ।

Leave a Reply